আকাইদ ও নৈতিক জীবন – (ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, ৯ম-১০ম) | নোট ২

শিরক কি? এর ধরন গুলো ব্যাখ্যা কর।

মহান আল্লাহর সাথে কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে শরিক করাকে শিরক বলে।শিরক চার ধরনের হতে পারে। যথা-১.আল্লাহ তায়ালার সত্তা ও অস্তিত্বে শরিক করা, ২.আল্লাহর গুণাবলিতে শিরক করা, ৩. সৃষ্টিজগতের পরিচালনায় কাউকে আল্লাহর অংশীদার করা এবং ৪.ইবাদতে আল্লাহর সাথে শরিক করা।

শাফায়াত বলতে কি বুঝায়?

শাফায়াত শব্দের অর্থ হলো সুপারিশ করা, অনুরোধ করা ইত্যাদি। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট নবী রাসুল ও নেক বান্দা গণের সুপারিশ করাকে শাফায়াত বলে। কিয়ামতের দিন নবী-রাসূল ও নেক বান্দাগণ আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তায়ালা এসব সুপারিশ কবুল করবেন এবং অনেক মানুষকে জান্নাত দিবেন।

আসমানি কিতাবে বিশ্বাসের গুরুত্ব ব্যাখা কর?

আসমানি কিতাব সমূহে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা আসমানী কিতাবগুলোর মাধ্যমেই নবী-রাসূল, ফেরেশতা, পরকাল ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারে। যদি কেউ আসমানি কিতাব সমূহ ও তাতে বর্ণিত বিষয়সমূহে অবিশ্বাস করে, তবে স্বভাবতই সে ঈমানের অন্যান্য বিষয়গুলো ও অস্বীকার করে। সুতরাং ঈমান আনার জন্য আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য । অন্যথায় পূর্ণ মুমিন হওয়া যায় না।

আমরা তাওহীদে বিশ্বাস করব কেন? ব্যাখ্যা কর।

ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে শিকার করে নেওয়া কে তাওহীদ বলা হয়। ঈমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় হল তাওহীদ। তাওহীদের বিশ্বাস ব্যতীত কোন ব্যক্তিই ঈমান বা ইসলামে প্রবেশ করতে পারে না। ইসলামের সকল শিক্ষা ও আদর্শই তাওহীদের ওপর প্রতিষ্ঠিত। দুনিয়াতে যত নবী-রাসূল এসেছেন সকলেই তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন। সকলের দাওয়াতের মূল কথা ছিল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বা আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই । বস্তুত তাওহিদই হল ঈমানের মূল। ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম।

“নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম। “-বাণীটির ব্যাখ্যা কর।

শিরক হল ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। শিরক কে চরম জুলুম বলা হয়েছে। পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড় হল শিরক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম। ” (সূরা লোকমান :১৩) বস্তুত আল্লাহ তায়ালাই আমাদের স্রষ্টা ও প্রতিপালক। তার প্রদত্ত নিয়ামতই আমরা ভোগ করি। এরপরও যদি কেউ আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করে তবে তা অপেক্ষা বড় জুলুম আর কি হতে পারে। তাই শিরক কে চরম জুলুম বলা হয়েছে।

নৈতিকতা বলতে কি বোঝ?

নৈতিকতা হল এমন নীতি, যেটি মানুষকে সত্য ও সুন্দরের দিকে পরিচালিত করে। শান্তি ও শৃঙ্খলার দিকে পরিচালনা করে এবং মানুষকে সৎ ও সুন্দর জীবন যাপনে উৎসাহিত করে। একজন নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ শান্তি ও শৃঙ্খলার দিকে পরিচালিত হয় এবং ইহকালীন পরকালীন কল্যাণ ও সফলতা লাভে সমর্থ হয়।

মুনাফিকদের পরিণতি ভয়াবহ কেন?

অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন করে মুখে স্বীকার করাই হল নিফাক তথা মুনাফেকি। মুনাফিকদের পরিণতি অনেক ভয়াবহ কারণ তারা সদা সর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য চেষ্টা করে। মিথ্যার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে।

ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয় কেন?

ইসলাম শব্দটি (সিলমুন) মূল ধাতু হতে নির্গত, সিলমুন অর্থ শান্তি। ইসলাম মানুষকে শান্তির পথে পরিচালনা করে। ইসলামী বিধি-বিধান মেনে চললে দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষ পরিপূর্ণ শান্তিময় জীবন লাভ করতে পারে। এজন্য ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয়।

ইসলাম সর্বজনীন ধর্ম – ব্যাখ্যা কর।

ইসলাম সর্বজনীন ধর্ম। এটি কোন কাল, অঞ্চল বা জাতির জন্য সীমাবদ্ধ নয়। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি ধর্মেরই তাদের প্রবর্তক, প্রচারক, অনুসারী কিংবা জাতির নামে নামকরণ করা হয়েছে। কিন্তু সর্বজনীন ধর্ম হওয়ার কারণে এর নামকরণ কারো নামে করা হয়নি। বরং মহান আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে শান্তির পথে জীবন পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে এর নামকরণ করা হয়েছে।

আমরা তকদিরে বিশ্বাস স্থাপন করব কেন?

ঈমানের মৌলিক সাতটি বিষয়ের অন্যতম একটি বিষয় হল তকদির। তাই আমরা তকদিরে বিশ্বাস স্থাপন করব। আর আল্লাহ তায়ালা মানুষের তকদিরের নিয়ন্ত্রক। তিনিই তকদিরের ভালো-মন্দ নির্ধারণকারি। মানুষ যা চায় তাই সে করতে পারবে না। বরং মানুষ শুধু তার কাজের জন্য চেষ্টা, সাধনা করবে।অতঃপর ফলাফলের জন্য আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করবে। যদি চেষ্টা করার পরও কোন কিছু না পায়, তবে হতাশ হবে না। আর যদি পেয়ে যাই তবুও খুশিতে আত্মহারা হবে না। বরং শবর ও শুকর আদায় করবে।

হযরত মুহাম্মদ (স.) -কে বিশ্বনবী বলা হয় কেন?

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)ছিলেন অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। দুনিয়াতে আগমনকারী সব নবী -রাসূলই কোন বিশেষ গোত্র, বিশেষ দেশ, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সারা বিশ্বের সকল স্থানের সকল মানুষের নবী। সুতরাং তিনি বিশ্বনবী।

নবুয়তের ক্রমধারা বলতে কি বুঝায়?

আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। সর্বপ্রথম নবী ছিলেন হযরত আদম (আ.)।আর সর্বশেষ নবী ও রাসুল হলেন হযরত মুহাম্মদ( স.)। এদের মাঝখানে আল্লাহ তাআলা আরো নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। হযরত আদম হতে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ (স.)পর্যন্ত নবী-রাসূলদের আগমনের এ ধারাবাহিকতাকে নবুয়তের ক্রমধারা বলা হয়।

হযরত মুহাম্মদ (স.)- কে খাতামুন নাবিয়্যিন বলা হয় কেন?

আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। এদের মধ্যে সর্বপ্রথম ছিলেন হযরত আদম (আ.)।আর সর্বশেষ নবী ও রাসূল হলেন হযরত মোহাম্মদ (স.)।হযরত মুহাম্মদ (স.) এর মাধ্যমে নবী-রাসূলগণের আগমনের ধারা শেষ বা বন্ধ হয়ে যায়।সুতরাং তিনি সর্বশেষ নবী বা খাতামুন নাবি

আখিরাত বলতে কি বুঝায়?

আখিরাত অর্থ পরকাল। মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলা হয়। মানব জীবনের দুটি পর্যায় রয়েছে- ইহকাল ও পরকাল। ইহকাল হল দুনিয়ার জীবন। আর মৃত্যুর পরে মানুষের যে নতুন জীবন শুরু হয় তার নাম পরকাল বা আখিরাত। আখিরাত অনন্তকালের জীবন। এ জীবনের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। এটি মানুষের চিরস্থায়ী আবাস।আখিরাতে মানুষের দুনিয়ার কাজকর্মের হিসাব নেওয়া হবে। অতঃপর ভালো কাজের জন্য জান্নাত এবং মন্দ কাজের জন্য জাহান্নামের শাস্তি দেওয়া হবে।

কিয়ামত বলতে কি বুঝ?

ফেরেশতা ইসরাফিল (আ.)আল্লাহর নির্দেশে যেদিন প্রথম শিঙ্গায় ফুঁক দিবেন সেদিন সারা বিশ্ব প্রলয় হয়ে যাবে। এ প্রলয়ের পর তিনি দ্বিতীয়বার ফুঁক দিবেন তখন সকল মানুষ যে যেখানে থাকুক সেখান থেকে উঠে দাঁড়াবে। এই অবস্থাকেই কিয়ামত বলে।

হাশর বলতে কি বুঝায়?

হাশর হলো মহাসমাবেশ। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে হযরত ইসরাফিল (আ.) শিঙ্গায় ফুঁক দিলে পৃথিবী ধ্বংস এবং দ্বিতীয় ফুৎকারে সকল মানুষ ও প্রাণিকুল মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হবে। হলেই সেদিন একজন আহ্বানকারী ফেরেশতার ডাকে হাশরের ময়দানে সমবেত হবে। এ ময়দান বিশাল বিশাল ও সুবিন্যাস্ত। পৃথিবীর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষই সেদিন এ মাঠে একত্রিত হবে। এ সমাবেশকেই হাশর বলা হয়।

জাহান্নাম বলতে কি বুঝায়?

জাহান্নাম হলো শাস্তির স্থান বা চির দুঃখের জায়গা। পরকালে মুমিনগণের জন্য যেমন জান্নাতের ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি পাপীদের জন্য রয়েছে শাস্তির স্থান।জাহান্নামই হল সে শাস্তির জায়গা। জাহান্নামকে নার আগুনও বলা হয়। জাহান্নাম চিরশাস্তির স্থান।এর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। মানুষের পাপের পরিমাণ অনুসারে শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

তাওহীদের মূলকথা ব্যাখ্যা কর।

শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া কে তাওহীদ বলা হয়। তাওহীদের মূল কথা হল আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি তার সত্তা ও গুণাবলীতে অদ্বিতীয়। তিনি প্রশংসা ও ইবাদতের একমাত্র মালিক। তার তুলনীয় কেউ নেই। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন কোন কিছুই তার সদৃশ নয়। (সূরা আশ -শুরা:১১) এটি ঈমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয়।

ইসলাম কি?

আল্লাহর প্রতি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস স্থাপন করে তার পূর্ণ আনুগত্য ও তার নিকট আত্মসমর্পণ করা, তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তার দেয়া বিধান অনুসারে জীবনযাপন করাকে ইসলাম বলে।

আকাইদ বলতে কি বুঝায়?

আকাইদ শব্দটি আকিদা শব্দের বহুবচন। এর অর্থ বিশ্বাস মালা। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসকেই আকিদা বলা হয়। ইসলাম আল্লাহর তায়ালার মনোনীত একমাত্র দীন বা জীবন ব্যবস্থা। এর দুটি দিক রয়েছে। যথা বিশ্বাসগত দিক ও আচরণগত বা প্রায়োগিক দিক।ইসলামের বিশ্বাসগত দিকের নামই হলো আকাইদ।

মানবিক মূল্যবোধের উপকারিতা কি?

মানবিক বলতে মানব সমন্ধনীয় বোঝায়। অর্থাৎ যেসব বিষয় একমাত্র মানুষের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী হওয়ার যোগ্য তাই মানবিক মূল্যবোধ। মানবিক মূল্যবোধ ব্যক্তি বা সমাজ জীবনে তৈরি হলে সে জীবনে বিশৃঙ্খলা দূর হয় এবং সুন্দর সুখী জীবন লাভ হয়।

মুনাফিকের কার্যক্রম ব্যাখ্যা কর?

মুনাফিকের কার্যক্রম ৩ প্রকার। প্রথমত যখন কথা বলে মিথ্যা বলে। দ্বিতীয়তঃ যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে। তৃতীয়ত যখন তার কাছে কোন কিছু আমানত রাখা হয় খেয়ানত করে। এক কথায় বিশ্বাসঘাতকতা মুনাফিকের অন্যতম কাজ।

মিযান বলতে কি বুঝায়?

মিযান শব্দটি আরবি। এর অর্থ মাপযন্ত্র, পরিমাপক বা দাঁড়িপাল্লা। ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায়, হাশরের দিন আল্লাহ বান্দার পাপ পুণ্যের হিসাব নেওয়ার জন্য যে যন্ত্র বা মাপকাঠি ব্যবহার করবেন তাকে মিযান বলে। মিযান সম্পর্কে আল্লাহ বলেন সেদিন সত্য সত্যই আমল পরিমাপ করা হবে। যাদের নেক আমল ভারী হবে তারা সফলকাম হবে।

সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনার জন্য ইসলামের বিকল্প নেই। -বুঝিয়ে লেখ।

মানুষ তথা বিশ্ব জগতের স্রষ্টা আল্লাহ। মানুষের জীবন চালানোর জন্য প্রদত্ত জীবন বিধান আল্লাহর দেওয়া। যার নাম ইসলাম। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল কর্মের নির্দেশনা এ ইসলামে বিদ্যমান। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সকল বিষয়েই ইসলামে যথাযথভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবন বা পরকালের অবস্থার বর্ণনাও ইসলামে রয়েছে।

আমানতের খিয়ানত বলতে কি বুঝায়?

সাধারণত কারো কাছে কোন অর্থ সম্পদ গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলে। আমানতের বিপরীত শব্দ খিয়ানত।অর্থাৎ যে সম্পদ গচ্ছিত রাখা হয় তা যথাযথ ভাবে মালিকের কাছে প্রত্যর্পণ না করে আত্মসাৎ বা ক্ষতিসাধন করাকে আমানতের খিয়ানত বলে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।