আখলাক – (ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, ৯ম-১০ম) | নোট ২

ফিতনা হত্যার চেয়েও জঘন্য কেন? ব্যাখ্যা কর।

ফিতনা -ফাসাদ বলতে বিশৃঙ্খলা বিপর্যয় সৃষ্টি বুঝায়। যে সমাজে ফিতনা-ফাসাদ প্রসার লাভ করে সে সমাজ কখনো উন্নতি করতে পারে না। সমাজের ঐক্য সংহতি বিনষ্ট হয়। এরূপ সমাজে মানুষের জীবন ও সম্পদের কোন নিরাপত্তা থাকে না। মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম -কর্ম, ব্যবসায়ী -বাণিজ্য, লেনদেন, আচার -অনুষ্ঠান করতে পারেনা । এক কথায় ফিতনা ফাসাদের ফলে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নেমে আসে চরম অমানিশা। এজন্যই আল্লাহ বলেন ফিতনা হত্যার চেয়েও জঘন্য। “(সূরা আল-বাকারা:১৯)

কিভাবে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা যায়? ব্যাখ্যা কর।

মানুষের কাজের কারণেই মানুষের অন্তর কুলুষিত হয়। সুতরাং আত্মশুদ্ধির প্রধান উপায় হল খারাপ কাজ ত্যাগ করা এবং কুচিন্তা, কুঅভ্যাস বর্জন করা। সদাসর্বদা সৎকর্ম, নৈতিক ও মানবিক আদর্শে নিজ চরিত্র গড়ে তোলার দ্বারা আত্মশুদ্ধি অর্জন করা যায়। মহানবী সাঃ বলেছেন “প্রত্যেক বস্তুরই পরিশোধক যন্ত্র রয়েছে। আর অন্তর পরিষ্কারের যন্ত্র হলো আল্লাহর যিকির।”(বায়হকি)বেশি বেশি আল্লাহ তায়ালার স্মরণ ও যিকিরের মাধ্যমে অন্তরের কালো দাগ ও মরিচা দূর করা যায়। যিকিরের মাধ্যমে আত্মা প্রশান্ত ও পরিশুদ্ধ হয়। এছাড়াও তওবা, ইস্তেগফার, তাওয়াক্কুল, যুহদ, ইখলাস, শবর, শুকর, কুরআন তেলাওয়াত সালাত ইত্যাদির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা যায়।

‘ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়ই জাহান্নামী’ হাদীসটি বুঝিয়ে লেখ।

“ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহিতা জাহান্নামী” হাদীসটিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত করেছেন। ঘুষ গ্রহণ ও প্রধান উভয়ই সমান অপরাধ। উভয়টিকে ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছেন। আর হারাম ভক্ষণকারীর কোন এবাদত কবুল হবে না। সে জান্নাতে কখনো প্রবেশ করতে পারবেনা। এই সম্বন্ধে রাসূল (স.)এর বাণী -“হারাম ভক্ষণকারীর শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। “

আখলাকে হামিদাহ বলতে কি বুঝায়?

মানব চরিত্রের সুন্দর, নির্মল ও মার্জিত গুণাবলী কে আখলাকে হামিদা বলা হয়। মানুষের সার্বিক আচার-আচরণ যখন শরীয়ত অনুসারে সুন্দর সুষ্ঠু ও কল্যাণকর হয় তখন সে স্বভাব চরিত্রকে বলা হয় আখলাকে হামিদা। আখলাকে হামিদাহ কে আখলাকে হাসনাহ বা হুসনুল খুলক ও বলা হয়। আখলাকে হাসানাহ অর্থ সুন্দর চরিত্র।মানব চরিত্রের উত্তম ও নৈতিক গুনাবলি আখলাকে হামিদাহর অন্তর্ভুক্ত। যেমন-সততা,সত্যবাদিতা।

‘গিবত ‘সামাজিক ব্যাধি -ব্যাখ্যা কর।

গিবত সামাজিক ব্যাধি। গিবতের মাধ্যমে একের দোষ ত্রুটি অন্যের কাছে তুলে ধরা হয়। অন্যকে হেও প্রতিপন্ন করা হয়। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হয়। সমাজে অশান্তির সৃষ্টি হয়। গিবতের ফলে কারো ছোট্ট দোষকে অনেক সময় বড় করে দেখানো হয়। যা ঝামেলার সৃষ্টি করে। এজন্য গিবতকে সামাজিক ব্যাধি বলা হয়েছে।

মুত্তাকি কাকে বলে?

তাকওয়া শব্দের অর্থ বিরত থাকা, বেঁচে থাকা, ভয় করা, নিজেকে রক্ষা করা। ব্যবহারিক অর্থে পরহেজগারি, খোদাভীতি, আত্মশুদ্ধিকে বুঝায়। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় অন্যায়, অত্যাচার ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকাকে তাকওয়া বলা হয়। সকল প্রকার পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করাকে তাকওয়া বলা হয়। যিনি তাকওয়া অবলম্বন করেন তাকে বলা হয় মুত্তাকি।

‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক -কেন বলা হয়?

জীবনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার গুরুত্ব অপরিসীম। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। নোংরা, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত থাকা ঈমানদারগণের স্বভাব নয়। বরং মুমিনগন সদাসর্বদা পরিষ্কার ও পবিত্র থাকেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিদের সবাই ভালবাসে। তাই পবিত্রতাকে ঈমানের অর্ধেক বলা হয়।

প্রতারণা বর্জনীয় কেন?

প্রতারণা তাকওয়াপূর্ণ জীবন যাপনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। প্রতারণার অন্যতম একটি কুফল হল প্রতারণা মিথ্যাচারের মতোই মহাপাপ। মিথ্যা যেমন ঘৃণ্য প্রতারণা ও তেমনি ঘৃণ্য। মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ জন্যই বলেছেন “যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমাদের মুসলমানদের দলভুক্ত নয়।” অতএব, আমাদের মহানবী (স.)এর দলভুক্ত থাকতে হলে মুমিন থাকতে হলে প্রতারণা পরিহার করতে হবে। প্রতারণা করা হারাম তাই প্রতারণা বর্জনীয়।

“লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা। “হাদিসটির সারকথা লিখ।

‘লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা’- কেননা পুত-পবিত্রতা ও শালীনতার অন্যতম বিষয় হলো লজ্জাশীলতা।লজ্জাশীলতা মানুষকে শালীন হতে সাহায্য করে। চলাফেরা, পোশাক -পরিচ্ছদ, কথাবার্তা, আচার-আচরণে লজ্জাশীল হওয়ার মাধ্যমে মানুষের মান সম্মান সুরক্ষিত থাকে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরকালে মুক্তি পাওয়া যায়।

তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল- ব্যাখ্যা কর।

সামাজিক জীব হিসেবে দুনিয়াতে মানুষের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। যেগুলো পালন করা অবশ্য কর্তব্য। কাজেই অবহেলা করলে পরকালের জবাবদিহি করতে হবে। এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। আর তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব পালনের জন্য জিজ্ঞাসিত হবে। ” (বুখারি)

তাকওয়া বলতে কি বুঝায়?

তাকওয়া শব্দের অর্থ বিরত থাকা, বেঁচে থাকা, ভয় করা, নিজেকে রক্ষা করা ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে পরহেজগারি, খোদাভীতি, আত্মশুদ্ধি কে বুঝায়। ইসলামী পরিভাষায় আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় অন্যায়, অত্যাচার ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার নাম তাকওয়া। অন্যভাবে বলা যায় সকল প্রকার পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করাকে তাকওয়া বলা হয়।

‘সুন্দর ব্যবহারই পুন্য ‘-ব্যাখ্যা কর।

সৎচরিত্র ও সুন্দর ব্যবহার পরকালীন জীবনেও মানুষের কল্যাণে হাতিয়ার, মুক্তির উপায় হবে। উত্তম আচার-আচরণ মানুষকে পুন্য বা সওয়াব দান করে। এজন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সুন্দর চরিত্রই পুন্য। ” (মুসলিম)প্রশংসনীয় আচরণ ও স্বভাব কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলের পাল্লা ভারী করবে। অন্য একটি হাদিসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই মিযানে সুন্দর চরিত্র অপেক্ষা ভারী বস্তু আর কিছুই থাকবে না। ” (তিরমিযি)

‘তাযকিয়াতুন নাফসি’বলতে কি বোঝ?

তাযকিয়াতুল নাফস বলতে আত্মশুদ্ধি কে বুঝায়। আত্মশুদ্ধি অর্থ নিজের সংশোধন, নিজকে খাঁটি করা, পাপ মুক্ত করা ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায় সর্বপ্রকার অনৈসলামিক কথা ও কাজ থেকে নিজ অন্তরকে মুক্ত ও নির্মল রাখাকে আত্মশুদ্ধি বলা হয়। আল্লাহ তাআলার স্মরণ আনুগত্য ও ইবাদত ব্যতীত অন্য সমস্ত কিছু হতে অন্তরকে পবিত্র রাখাকেও আত্মশুদ্ধি বলা হয়। আত্মশুদ্ধির আরবি পরিভাষা হলো ‘তাযকিয়াতুন নাফস’। একে সংক্ষেপে তাযকিয়াহ ও বলা হয়।

‘সত্যবাদিতা একটি মহৎ গুণ ‘বুঝিয়ে লেখ।

সত্যবাদিতা একটি মহৎ গুণ। সত্যবাদী ব্যক্তি সকলের বিশ্বাস অর্জন করে। এমনকি পরম শত্রু ও তাকে বিশ্বাস করে। সত্যবাদী ব্যবসায়ী দ্রব্যে ভেজাল দেয় না এবং পণ্যের দোষ ত্রুটি গোপন রাখে না। সৎ কর্মচারী কাজে ফাঁকি দেয় না। অন্যের সাথে প্রতারণা করে না। সততা মানুষকে বিপদমুক্ত করে সফলতা দান করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,” তোমাদের কর্তব্য হলো সত্যবাদিতা রক্ষা করা কেননা সত্যবাদিতা পুণ্যের পথে বা পরম কল্যাণকর কাজের দিকে পরিচালিত করে। আর এ পুণ্য কাজই জান্নাতে পৌঁছে দেয়। “

‘নাহি আনিল মুনকার’-বলতে কি বোঝায়?

‘নাহি আনিল মুনকার’- এর অর্থ অসৎ কাজে বাধা দেওয়া। অসৎ কাজে বাধা দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। কেননা এটি সমাজ থেকে অন্যায়, অশ্লীলতা ও নির্যাতনের মূলোৎপাটন করে। মানুষের এর মাধ্যমে ন্যায়-অন্যায়, -ভালো মন্দ বুঝতে শিখে ও ধীরে ধীরে সত্য ও ন্যায়ের পথে অনুসরণ করে। তাছাড়া যদি অসৎ কাজের নিষেধ করা না হয় তাহলে সমাজে অন্যায় কাজের বিস্তার ঘটে।

নারীর প্রতি সম্মান বোধের উপায় কি? তা লেখ।

নারীর প্রতি সম্মানবোধ মানুষের উত্তম মন -মানসিকতার পরিচায়ক। শুধু অন্তরে সম্মান ও মর্যাদা থাকলেই চলবে না ;বরং বাস্তবে তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরী। আমাদের পরিবারে ও আত্মীয়-স্বজনদের অনেক মহিলা রয়েছেন,স্কুল শিক্ষিকা রয়েছেন, নারী সহকর্মী রয়েছেন তাদের প্রতি সুন্দর ব্যবহার মায়া শ্রদ্ধা ও সম্মান সহযোগিতা ইত্যাদির মাধ্যমে নারীর প্রতি সম্মানবোধ প্রকাশ করা যায়।

আখলাক বলতে কি বুঝায়?

আখলাক আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ স্বভাব, চরিত্র ইত্যাদি। শব্দগত বিবেচনায় আখলাক বলতে সচ্চরিত্র ও দুশ্চরিত্র উভয়কে বুঝায়। তবে প্রচলিত অর্থে আখলাক শুধু সৎ চরিত্রকে বুঝায়। ভালো চরিত্রের মানুষকে আমরা চরিত্রবান বলি আর মন্দ চরিত্রের মানুষ মানুষকে আমরা চরিত্রহীন বলি। ব্যবহারিক বিবেচনায় আখলাক দ্বারা ভালো ও উত্তম চরিত্র কে বুঝানো হয়। মূলত আখলাক হল মানুষের স্বভাব সমূহের সমন্বিত রূপ।

আল্লাহ তায়ালার নিকট তাকওয়াবান ব্যক্তির মর্যাদা ব্যাখ্যা কর।

তাকওয়া একটি মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। মানব জীবনে তাকওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। তাকওয়া মানুষকে ইহকালীন ও পরকালীন উভয় জীবনকে সম্মান মর্যাদা ও সফলতা দান করে।। আল্লাহ তা’আলা বলেন,” নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান। “(সূরা:আল -হুজুরাত:১৩)ধন-সম্পদ, শক্তি-ক্ষমতা, গাড়ি-বাড়ি থাকলেই মানুষ আল্লাহ তায়ালার নিকট মর্যাদা লাভ করতে পারে না। বরং যে ব্যক্তি তা অবলম্বন করতে পারে সেই আল্লাহ তাআলার নিকট বেশি মর্যাদাবান।

খায়িন -এর পরিচয় ব্যাখ্যা কর।

আমানতের বিপরীত হলো খেয়ানত। খেয়ানত অর্থ আত্মসাৎ করা, ভঙ্গ করা। আমানতকৃত দ্রব্য বা বিষয় যথাযথভাবে প্রকৃত মালিকের নিকট ফিরিয়ে না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করাকে খিয়ানত বলে। যে ব্যক্তি গচ্ছিত জিনিসের খেয়ানত করে তাকে খাইন বলা হয়।

ভ্রাতৃত্ববোধ বলতে কি বুঝায়?

ভ্রাতৃত্ববোধ হলো ভ্রাতৃত্বশুলভ অনুভূতি প্রকাশ। অর্থাৎ এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে ভাইয়ের ন্যায়ে মনে করা,ভাতৃশুলভ আচার-আচরণ করা। সহোদর ভাইয়ের সাথে আমরা যেমন ভাল ব্যবহার করি, সব সময় তাদের কল্যাণ কামনা করি, তাদের জন্য নিজেদের নানা স্বার্থ ত্যাগ করি, তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসি। তেমনিভাবে দুনিয়ার সকল মানুষের প্রতি এরূপ মনোভাব পোষণ ও নিজ কর্মের মাধ্যমে এর প্রমাণ উপস্থাপনই হলো ভ্রাতৃত্ববোধ।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বলতে কি বুঝায়?

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হলো নানা সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যকার সম্প্রীতি ও ভালোবাসা।আমাদের সমাজে বহু ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও জাতির লোক বাস করে।তারা এক একটি সম্প্রদায়। সম্প্রদায়ের মধ্যে পরস্পর ঐক্য সংহতি ও সহযোগিতার মনোভাবই হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।

কর্তব্যপরায়ণতা বলতে কি বুঝায়?

আখলাকে হামিদার অন্যতম গুন হল কর্তব্য পরায়ণতা। মানুষের সার্বিক উন্নতি ও সফলতার জন্য এর কোন বিকল্প নেই। কর্তব্য পরায়ণতা হলো যথাযথভাবে কর্তব্য আদায় করা দায়িত্বসমূহ পালন করা ইত্যাদি। মানুষ হিসেবে আমাদের উপর নানাবিদ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। এসব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সতর্ক ও সচেতন থাকা সময়মতো সুন্দর ও সুচারুভাবে এগুলো পালন করা এবং এক্ষেত্রে কোনরুপ অবহেলা বা উদাসীনতা প্রদর্শন না করা কে কর্তব্য পরায়ণতা বলা হয়।

প্রতারণা বলতে কি বুঝায়?

প্রতারণার অর্থ ঠকানো, ফাঁকি দেওয়া, ধোঁকা দেওয়া, বিশ্বাস ভঙ্গ করা। এটি মিথ্যাচারের একটি বিশেষ রূপ। ইসলামী পরিভাষায়, প্রকৃত অবস্থা গোপন রেখে ফাঁকি বা ধোকার উপর ভিত্তি করে নিজ স্বার্থ হাসিল করাকে প্রতারণা বলা হয়। প্রতারণার মাধ্যমে অন্যকে ভুল বুঝিয়ে ঠকানো হয়।

কর্ম বিমুখতা বলতে কি বুঝায়?

কর্মবিমুখতা বলতে কথা বলতে কাজ না করার ইচ্ছা কে বুঝায়। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোন কাজ না করে অলস বা বেকার বসে থাকাকে কর্মবিমুখতা বলা হয়। কোন অক্ষম ব্যক্তি যদি কোন কাজ করতে না পারে তবে তা কর্মবিমুখতা নয়। যেমন অন্ধ, বধির বা প্রতিবন্ধীরা শারীরিক কারণে সব ধরনের কাজ করতে সমর্থ নয়।বরং যোগ্যতা ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অলসতা বা অন্য কোন কারণে স্বেচ্ছায় কোন কাজ না করে বেকার বসে থাকা হল কর্মবিমুখতা।

সুদ বলতে কি বুঝায়?

সুদ ফারসি শব্দ।এর আরবি প্রতিশব্দ রিবা। কাউকে প্রদত্ত ঋণের মূল পরিমাণ এর উপর অতিরিক্ত আদায় করাকে রিবা বা সুদ বলা হয়। ঋণদাতা কতৃক ঋণগ্রহীতা থেকে মূলধনের অতিরিক্ত কোন লাভ নেওয়াই হলো সুদ। যেমন কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে ১০০ টাকা শর্তে ঋণ দিল যে গ্রহীতা ১১০ টাকা পরিশোধ করবে। এক্ষেত্রে ১০০ টাকার অতিরিক্ত ১০ টাকা হল সুদ। কেননা এর কোন বিনিময় মূল্য নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।