আদর্শ জীবন চরিত – (ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, ৯ম-১০ম) | নোট ২

ইমাম গাযালি (র.)-কে ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

হুজ্জাতুল ইসলাম বা ইসলামের দলিল বলা হয় ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ আল গাযালি (র.)কে। ইমাম গাযালি (র.) ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি সুফিবাদের উপর গুরুত্ব প্রদান করতেন। মানুষের আধ্যাত্মিক ও আত্মিক উন্নতির জন্য নৈতিক শিক্ষা যে কতখানি আবশ্যক তা তিনি তার লেখনীতে তুলে ধরেন। দর্শন ও সুফিবাদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অনেক মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। প্রামাণ্য ও যুক্তিপূর্ণ দলিলের মাধ্যমে তিনি ইসলামের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামী দর্শনের শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ‘হুজ্জাতুল ইসলাম ‘নামে অভিহিত করা হয়।

হযরত আলী (রা.)- এর বীরত্বের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

হযরত আলী (রা.)- ছিলেন শৌর্য-বীর্য ও অসাধারণ শক্তির অধিকারী। তার নাম শুনলে কাফিরদের মনে ত্রাস সৃষ্টি হতো। বদর যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ‘জুলফিকার ‘তরবারি উপহার দেন। খায়বারে কামুস দুর্গ জয় করলে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলাম তাকে ‘আসাদুল্লাহ ‘উপাধি প্রদান করেন। হুদায়বিয়ার সন্ধিপত্র তিনি নিজ হাতে লিখেছিলেন। মক্কা বিজয়ের সময় মুসলিম বাহিনীর পতাকা তার হাতে ছিল ।

হযরত আলি (রা.)-কে কেন ‘আসাদুল্লাহ ‘উপাধি দেওয়া হয়েছিল?

হযরত আলি (রা) শৌর্য-বীর্যে ছিলেন অসাধারণ শক্তির অধিকারী। তার নাম শুনলে কাফিরদের মনে ত্রাস সৃষ্টি হতো। খাইবারের কামুস দুর্গ জয় করলে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ‘আসাদুল্লাহ’ উপাধি প্রদান করেন।

যে দুটি গ্রন্থ আল রাযিকে অমর করে রেখেছে তার বর্ণনা দাও।

যে দুটি গ্রন্থ আল রাযিকে অমর করে রেখেছে তা হলো-১. আল জুদাইরি ওয়াল হাসবাহ ও২.আল মানসুরি। তিনি বসন্ত ও হাম রোগের উপর’ আল জুদাইরি ওয়াল হাসবা ‘নামক একখানি গ্রন্থ রচনা করেন। এর মৌলিকত্ব দেখে চিকিৎসা বিজ্ঞানের লোকেরা খুব আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলেন। তার আরেকটি গ্রন্থের নাম হল আল মানসুরি। এটি ১০ খন্ডে রচিত।এ গ্রন্থ দুটি আল রাযি কে চিকিৎসা শাস্ত্রে অমর করে রেখেছে।

গণিত শাস্ত্রের জনক কে? তার পরিচয় দাও।

মোঃ ইবনে মুসা আল খাওয়ারেযমিকে গণিত শাস্ত্রের জনক বলা হয়। তার নাম মোঃ ইবনে মুসা আল খাওয়ারেযমি। ৭৮০ খ্রি. তিনি খাওয়ারেযম নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গণিত শাস্ত্রের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ব্যক্তি। তাকে গণিত শাস্ত্রের জনক বলা হয়। বীজগণিতের আবিষ্কারক হলেন তিনি। এ বিষয়ে তার রচিত ‘হিসাব আল জাবর ওয়াল মুকাবালাহ’গ্রন্থের অনুসারে এই শাস্ত্র কে পরবর্তীকালে ইউরোপীয়রা আল- জেবরা নামকরণ করে। তিনি এ গ্রন্থে ৮ শতাধিক উদাহরণ সন্নিবেশিত করেন।সমীকরনের সমাধান করার ছয়টি নিয়ম তিনি আবিষ্কার করেন। এটি দ্বাদশ শতাব্দীতে ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়ে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পঠিত হত।’কিতাবুল হিন্দি’ তার পাটিগণিত বিষয়ক গ্রন্থ ।

আইয়্যামে জাহিলিয়া বলতে কি বুঝায়?

পাক -ইসলামী যুগকে আইয়্যামে জাহিলিয়া বলে। এই সময় গোটা পৃথিবী অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। বিশেষ করে এই সময় মানুষ নবী রাসূলদের শিক্ষা ভুলে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিল। তাদের আচার-ব্যবহার ও চালচলন ছিল বর্বর ও মানবতা বিরোধী।সুষ্ঠু ও সুন্দর সামাজিক ব্যবস্থা সম্পর্কে এ যুগের মানুষের কোন ধারণাই ছিল না। নরহত্যা, রাহাজানি, খুন-খারাবি, ডাকাতি, মারামারি, কন্যা সন্তানকে জীবিত কবর দেওয়া, জুয়া খেলা, মধ্যপান, সুদ ব্যভিচার ছিল তখনকার প্রচলিত ব্যাপার। তাই এ যুগকে আইয়মে জাহিলিয়া বা অজ্ঞতার যুগ বলা হয়

হারবুল ফিজারকে অন্যায় সমর বলা হয় কেন?

হারবুল ফিজারকে অন্যায় সমর বলা হয় কারণ হলো ‘হারবুল ফিজার’ কায়েস গোত্র অন্যায় ভাবে কুরাইশদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিল এবং এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল নিষিদ্ধ মাসে জুয়া খেলা কে কেন্দ্র করে। এই যুদ্ধ শুরু হয় মহানবী (সা.)১২ বছর বয়সে ব্যবসার উদ্দেশ্যে চাচার সাথে সিরিয়া যান।সিরিয়া থেকে ফিরে এসে তিনি হারবুল ফিজার যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখলেন। এ যুদ্ধ ছিল প্রায় পাঁচ বছর স্থায়ী। মহানবী সাঃ এ যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেননি তবে এই যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

ইমাম বুখারীকে বুখারা ত্যাগ করতে হয়েছিল কেন?

ইমাম বুখারী (রা.)হাদিসের সম্মান রক্ষার্থে বুখারা ত্যাগ করেন। দীর্ঘ সাধনা শেষে ঈমাম বুখারী (রা.) যখন তার জন্মভূমি বুখারায় আসলেন, তখন তৎকালীন বাদশা খালিদ ইবনে আহমদ হাদিস শোনার জন্য তাকে রাজদরবারে ডেকে পাঠান। ইমাম বুখারী রাঃ এমতাবস্থায় বলেন, “আমি হাদিসকে রাজ দরবার নিয়ে অপমান করতে চাই না। তার প্রয়োজন হলে সে আমার ঘরে বা মসজিদে আসুক।” অতঃপর বাদশা তাকে বুখারা ত্যাগে বাধ্য করলে তিনি সমরকন্দে চলে যান।।

রাসূল (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুকরণীয় কেন?

“রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। চরিত্রের উত্তম সমস্ত বৈশিষ্ট্যই তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। জাহিলিয়া যুগে আরবের লোকেরা যারা তার নবুওয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তারাও তাকে আল আমিন তথা বিশ্বস্ত উপাধিতে ভূষিত করেছিল।আল্লাহ বলেন, “অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের জীবনেই রয়েছে উত্তম “রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। চরিত্রের উত্তম সমস্ত বৈশিষ্ট্যই তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। জাহিলিয়া যুগে আরবের লোকেরা যারা তার নবুওয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তারাও তাকে আল আমিন তথা বিশ্বস্ত উপাধিতে ভূষিত করেছিল।আল্লাহ বলেন, “অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের জীবনেই রয়েছে উত্তম

সূরা আল আহযাব ২১ এজন্য রাসূলের জীবন আদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়।

‘হিলফুল ফুজুল’ এর উদ্দেশ্য কি ছিল?

হিলফুল ফুজুলের উদ্দেশ্যগুলো হল -১ আর্তের সেবা।২. অত্যাচারীকে প্রতিরোধ ও অত্যাচারিত কে সাহায্য করা। ৩.শান্তি -শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠা করা। ৪. গোত্রে গোত্রে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা।

আদর্শ বলতে কি বুঝায়

আদর্শকে আরবীতে’ উছওয়া’বলে। আদর্শ বলতে অনুকরণীয় -অনুসরণীয় ও গ্রহণযোগ্য চাল -চলন এবং রীতিনীতি কে বোঝায়। মানুষের সামগ্রিক জীবন সুন্দর ও সফল করতে যেসব মনীষীর জীবন কর্ম অনুসরণ করা হয় তাই হল জীবনাদর্শ।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)প্রেরিত হয়েছিলেন কেন?

মহানবী (সা.) -এর আবির্ভাবের পূর্বে আরবের মানুষ চরম বর্বরতা ও অজ্ঞতার মাঝে লিপ্ত ছিল। তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল চরমভাবে অধঃপতিত। কালের এ চরম অবক্ষয়ের কারণে একজন প্রদর্শক হিসেবে আল্লাহতালা পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করলেন।।

প্রাক-ইসলামি যুগের সংস্কৃতিক অবস্থা বর্ণনা কর।

জাহেলী যুগে আরবের লোকজন অধিকাংশ নিরক্ষর ও শিক্ষিত হলেও সাহিত্যের প্রতি তাদের খুব অনুরাগ ছিল।। তাদের অনেকেই মুখে মুখে গীতি কবিতা চর্চা করতো। তৎকালীন আরবে ওকায মেলা নামে বাৎসরিক একটি মেলা হত। মেলায় তৎকালীন সময়ে প্রসিদ্ধ কবিগণ তাদের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করত।যে সব কবিতা সেরা বিবেচিত হতো তা সোনালি বর্ণে লিখে পবিত্র কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে দেয়া হতো। মেলাকে কেন্দ্র করে তারা নগ্ন নিত্য ও উন্মাদনা দায়ক গান-বাজনার আয়োজন করত ।

আরবের লোকজন মোহাম্মদ (সা.) কে ‘আল আমিন ‘উপাধি দিয়েছিল কেন?

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) -এর চারিত্রিক গুণাবলী, আমানতদারিতা, সত্যবাদিতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার কারণে তৎকালীন আরবের লোকজন তাকে আল-আমিন উপাধি দিয়েছিল। নবুয়ত প্রাপ্তির পর যারা তাকে অস্বীকার করেছিল তারাও তাকে মিথ্যাবাদী বলতে পারেনি।

খাদিজা (রা.) মুহাম্মদ (সা.) এর নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠান কেন?

তখনকার আরবের শ্রেষ্ঠ সম্পদশালী বিদূষী ও বিধবা মহিলা হযরত খাদিজা (রা.) তার ব্যবসার দায়িত্ব হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর উপর অর্পণ করেন।খাদিজা হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর গুনাগুন উপলব্ধি করার জন্য তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মচারী মাইসারাকে মুহাম্মদ (সা.)এর সাথে সিরিয়া পাঠান।মাইসারা সিরিয়া হতে ফিরে এসে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর চারিত্রিক গুণাবলীর বর্ণনা দেন। তাতে মুগ্ধ হয়ে খাদিজা (রা.)নিজেই হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর নিকট তার বিবাহের প্রস্তাব পাঠান।

মহানবী (সা.)হিজরত করেন কেন?

আল্লাহর নির্দেশে প্রকাশে

ইসলামের পথে দাওয়াত দেয়া শুরু করলেন মূর্তি পূজারীরা তার বিরোধিতা করতে শুরু করলো নবীকে তারা ধর্মদ্রোহী পাগল বলে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতে লাগলো অবশেষে মক্কার কাফিররা হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে ইসলাম প্রচার হতে বিরত রাখতে না পেরে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিল অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু মদিনায় হিজরত করতে চলে গেলেন

বিদায় হজ বলতে কি বুঝায়?

মক্কা বিজয়ের পর দলে দলে লোক ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল।সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ইসলাম পৌঁছে গেল। হযরত মুহাম্মদ সাঃ বুঝলেন তার আর বেশি দিন পৃথিবীতে থাকা হবে না।৬৩২ খ্রিস্টাব্দে হজ করার ইচ্ছা করলেন। এই উদ্দেশ্যে উক্ত সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় লক্ষাধিক সাহাবী নিয়ে হজ করতে গিয়েছিলেন যা বিদায় হজ নামে পরিচিত ।

আবু বকর (রা.)-কে সিদ্দিক উপাধি দেয়া হয়েছিল কেন?

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি হযরত আবু বকর (রা.)-এর ছিল অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা।তিনি রাসুল (স.)-এর মুখে শোনা মাত্রই নিঃসন্দেহে তা বিশ্বাস করেন। তাই তাকে সিদ্দিক উপাধি দেয়া হয়েছিল। সিদ্দিক শব্দের অর্থ বিশ্বাসী।

হযরত উসমান (রা.) আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন কেন?

হযরত ওসমান (রা.) ৩৪ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণ করার কারণে তার চাচা হাকাম থাকে নানা রকম নির্যাতন করে। সব নির্যাতন তিনি সহ্য করেন। আত্মীয়দের নির্যাতন চরম পর্যায়ে পৌঁছলে মহানবী সাঃ এর নির্দেশে তদীয় কন্যা ও স্বীয় সহধর্মিণী রুকাইয়া কে নিয়ে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন।

তাফসিরে তারাবি সর্বমহলে সমাদৃত কেন? ব্যাখ্যা কর।

তাফসিরে তারাবিতে হাদিসের আলোকে পবিত্র কোরআনের ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ করা হয়। তাছাড়া তাফসীরটি ঐতিহাসিক ও সমালোচনামূলক গবেষণার অনন্য দলিল। সর্বমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত।

জুননুন মিসরির পরিচয় বর্ণনা কর।

জুননুন মিসরি। তার নাম ছাওবান পিতার নাম ইব্রাহিম।তিনি জুননুন মিসরি নামে পরিচিত।তিনি মিসরের আখমিম নামক স্থানে ৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সুফি হিসেবে প্রসিদ্ধ হলেও আরব মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে রসায়নশাস্ত্রের উপর যারা প্রথমদিকে গবেষণা করেন তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি রসায়ন শাস্ত্রের বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি করেন। তার লেখায় সোনা, রুপা সহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থের বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি মিসরীয় সাংকেতিক বর্ণের মর্মার্থ বুঝতেন। তিনি মিসরের আল জিজাহ নামক স্থানে ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

আদর্শ জীবনের গ্রহণীয় বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

আদর্শ জীবন চরিত্রে গ্রহণীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো-হলো-ক.মানুষের মাঝে সততা,বিশ্বস্ততা, উদারতা ও পরমতসহিষ্ণুতার সমন্বয় থাকা, খ.আত্মসংযম,পরোপকারিতা, বদান্যতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা বিনয় ও নম্রতার থাকা। এবং গ.সুশৃঙ্খলতা, পারস্পরিক সম্প্রীতি, নিরপেক্ষতা ,ক্ষমা ও ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি গুণের অস্তিত্ব থাকা।

“পবিত্র কুরআনের পরেই বুখারী শরীফ বিশুদ্ধতম গ্রন্থ “- ব্যাখ্যা কর।

পবিত্র কুরআনের পরে বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে বুখারী শরীফকে আখ্যায়িত করা হয়। এটি একটি হাদিস সংকলন।ইমাম বুখারী রাঃ সর্বাধিক সর্তকতা অবলম্বন করেছেন। যা অন্য কোন গ্রন্থ রচনা বা সংকলন করতে দেখা যায় না। তাই পবিত্র কুরআনের পরে একে সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

খুলাফায়ে রাশেদিন বলতে কি বুঝায়?

খোলাফায়ে রাশেদিন বলতে ইসলামের প্রথম চারজন খলিফা কে বোঝায়। যারা হলেন -হযরত আবু বকর (রা.) হযরত ওমর (রা.) হযরত উসমান (রা.) হযরত আলী (রা.)। তারা সকলেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে সরাসরি ইসলামের শিক্ষা লাভ করেছেন।বাস্তব জীবনে তা যথাযথ অনুসরন ও অনুকরণ করেছেন।

শালীনতার অভাব বলতে কি বুঝায়?

শালনতা মানে মার্জিত হওয়া। বেশভূষা,কথাবার্তা, চালচলন ও আচার-আচরণে মার্জিত হওয়া।ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ভদ্র,সভ্য,ও মার্যিত হওয়া।যে আচার-আচরণে এবং বেশভূষায় সুরুচির পরিচয় পাওয়া যায় তাকে শালীনতা বলে। পক্ষান্তরে, শালীনতার অনুপস্থিতিকে শালীনতার অভাব বলা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।