জামাতে নামাজ আদায় করতে হবে কেন?
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) জামাতের সাথে সালাত আদায় করার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, জামাতে সালাত আদায় করলে একাকী আদায় করার চাইতে ২৭গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। এছাড়া পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে সম্মিলিতভাবে সালাত আদায় করার কথা বলা হয়েছে। সর্বোপরি সালাতের কারণে দৈনিক পাঁচবার মুসলমানগণ একসাথে এক স্থানে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। একে অপরের খোঁজ খবর নিতে পারে। সুখে দুঃখে একে অপরের সহযোগিতা করতে পারে। এতে তাদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরো সুদৃঢ় হয়। ইত্যাদি কারণে আমরা নিয়মিত জামাতে সালাত আদায় করব।
শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দিতে বলা হয়েছে কেন?
মহানবী (স.) বলেছেন শ্রমিকের গায়ের গাম শুকানোর পূর্বেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও। এই হাদিস দ্বারা শ্রমিকের পাওনা যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা শ্রমিকরা সাধারণত গরিব ও নিঃস্ব শ্রেণীর হয়ে থাকে। তারা তাদের শ্রমের মজুরি দিয়ে চাল ডাল তরিতরকারি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে জীবন ধারণ করে। তাই তার পাওনা পেতে দেরি হলে শ্রমিক ও তার পরিবার অভুক্ত থেকে কষ্ট পাবে। ফলে শ্রমিকের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিবে এবং এ অসন্তোষ থেকে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর যদি শ্রমিক তার পাওনা যথাসময়ে পায় তাহলে তার মনে আনন্দ থাকবে এবং সে উৎসাহের সাথে কাজ করবে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এজন্য রাসূল (স.) উক্ত নির্দেশ দিয়েছেন।
জিহাদের উদ্দেশ্য কি?
জিহাদ ইসলামের একটি আমল। জীবনের সকল ক্ষেত্রে দীনের বৈশিষ্ট্য সমূহ রক্ষা করা এবং ইসলামের বিধি-বিধান ও অনুশাসন মেনে চলা যেমন একজন মুমিনের দায়িত্ব, অনুরূপভাবে রক্ষা করা, সমুন্নত রাখা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে জিহাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করাও তেমনিভাবে কর্তব্য। বান্দাকে মানবীয় কু প্রবৃত্তি ও শয়তানের প্ররোচনা হতে মুক্ত করে একনিষ্ঠভাবে আর অনুগত বানিয়ে দেওয়াই জিহাদের উদ্দেশ্য।
শ্রমের মর্যাদা কি? বুঝিয়ে লেখ।
শ্রম অর্থ মেহনত করা, খাটুনি করা, কাজ করা ইত্যাদি। আরবিতে শ্রম কে আমল বলে। শ্রমের প্রতি যত্নবান হওয়া শ্রমের স্বীকৃতি প্রদান করা এবং শ্রমিকের উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদান করাকে বলে শ্রমের মর্যাদা বা ‘ফজিলাতুল আমল’। আল্লাহর নবী রাসূলগণ নিজেরা পরিশ্রম করতেন। আল্লাহ শ্রমশীল মানুষদের ভালবাসেন।
ইবাদত বলতে কি বুঝায়? বর্ণনা কর।
ইবাদত আরবি শব্দ। এর অর্থ অনুগত্য করা, দাসত্ব করা, গোলামি করা আর ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজকর্মে আল্লাহ তায়ালার বিধি বিধান মেনে চলাকে ইবাদত বলা হয়।
ইলমের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর?
ইসলামে ইলম এর গুরুত্ব এত বেশি যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন নাজিলের সূচনা করেছেন পড়ুন শব্দ দ্বারা। আল্লাহ বলেন, পড়ুন আপনার প্রভুর নামে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন হয় বিধায় মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে এবং পরিপূর্ণ মানুষ রূপে গড়ে উঠতে জ্ঞানচর্চা অপরিহার্য।
হজ কাকে বলে? বুঝিয়ে লেখ।
হজ ইসলামের পঞ্চম ভিত্তি। হজের আভিধানিক অর্থ সংকল্প করা, ইচ্ছা করা, বা প্রদক্ষিন করা। ইসলামের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাইতুল্লাহ সমূহ যিয়ারত করা কে হজ বলে।
ছাত্র শিক্ষক সম্পর্ককে আত্মার সম্পর্কের সাথে তুলনা করা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা কর।
ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হল আত্মার সম্পর্ক। এটি পিতা পুত্রের সম্পর্কের ন্যায়। পিতা যেমন সর্বদা পুত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে কল্যাণের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন। শিক্ষকও তেমনি তার ছাত্রের কল্যাণ কামনা করেন ও তাকে সৎ পথ দেখান। পুত্র তার পিতা থেকে সম্পদের অধিকারী হয় অন্যদিকে ছাত্র ও তার শিক্ষক থেকে জ্ঞানের অধিকারী হয়। পুত্র যেমন পিতা থেকে প্রাপ্ত সম্পদের পরিচর্যা করে পিতা থেকেও বড় সম্পদশালী হতে পারে। শিক্ষার্থী ও তেমনি শিক্ষক থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানসমৃদ্ধ করে শিক্ষক থেকেও বড় জ্ঞানী হতে পারে।
শিক্ষক হলেন জাতি গঠনের কারিগর-ব্যাখ্যা কর।
শিক্ষক হলেন আদর্শ জাতি গঠনের কারিগর। পিতা মাতার পরই শিক্ষকের অবস্থান। পিতা-মাতা শুধু সন্তানকে জন্ম দিয়ে লালন পালন করেন। পক্ষান্তরে, শিশুদেরকে প্রকৃত মানুষ রূপে গড়ে তুলেন একজন শিক্ষক। শিক্ষার্থীরা অনুকরণ প্রিয়। শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি হবে শিক্ষকরাই ছোটবেলায় শিখিয়ে দেন। শিক্ষকগন শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় কানুন, আদব কায়দা, শিষ্টাচার, দয়া সহানুভূতি ইত্যাদি শিক্ষা দিয়ে থাকেন। যা তারা পরিণত বয়সে কাজে লাগিয়ে নিজের ও জাতির উন্নতিতে এগিয়ে আসেন।
শিক্ষককে কেন শ্রদ্ধা করতে হয় বুঝিয়ে লেখ।
পিতা মাতার পরই শিক্ষকের স্থান। শিক্ষক পরম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। তিনি আমাদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেন। পিতা-মাতা সন্তানের লালন পালন করে থাকেন কিন্তু শিক্ষক তাকে সত্তিকারের মানবিক গুনাবলী দান করেন। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় আইন কানুন, আদব কায়দা, শিষ্টাচার বিনম্র নিয়মানুবর্তিতা ইত্যাদি দিয়ে থাকেন। শিক্ষার্থী তার পরিণত বয়সে শিক্ষকের দেয়া জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সার্বিক সফলতা লাভ করে থাকে।
ধনীদের সম্পদে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে কথাটি ব্যাখ্যা কর।
যাকাত প্রদান করা দরিদ্রদের প্রতি ধনী লোকের দয়া বা অনুগ্রহ নয়। বরং যাকাত হলো দরিদ্র লোকের প্রাপ্য বা অধিকার। কেউ ইসলামের অনুসারী হলে তার উচিত স্বেচ্ছায় যাকাত প্রদান করে অসহায় লোকদের নিকট তা পৌঁছে দেয়া। মহান আল্লাহ বলেন “আর তাদের সম্পদে ভিক্ষুক ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।” (সূরা আয-যারিয়াত:১৯) তাই সম্পদশালী ব্যাক্তি তার সম্পদ ভক্ষন করার পূর্বে চিন্তা করবে যে, এতে অসহায়দের অধিকার আছে। তাদের অধিকার অবশ্যই দিতে হবে।অন্যথায় সমুদয় সম্পদ তার জন্য অপবিত্র হয়ে যাবে।
সালাত আদায় করার পর জমিনে ছড়িয়ে পড়, আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে ব্যাপৃত হও এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো সফলকাম হও এ আয়াত অংশ দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে?
এ আয়াতের মর্ম থেকে বুঝা যায় যে, আল্লাহর আদিষ্ট কাজগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করে ব্যবসায় বাণিজ্য, চাকরি ও কৃষিকাজ করা এবং বৈধ পন্থায় সম্পদ উপার্জন ও দুনিয়ার অন্যান্য সকল ভাল কাজ করা ইবাদত। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা, তার রহমতের আশা, শাস্তির ভয়, ইখলাস, শবর, শুকর, তাওয়াক্কুল ইত্যাদি সব কাজই ইবাদতের মধ্যে শামিল।
সাওম বলতে কি বুঝায়?
সাওম আরবি শব্দ। এর ফারসি প্রতিশব্দ হলো রোযা। এর আভিধানিক অর্থ হলো বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় সাওম হল -সুবহে সাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকা। প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক নারী ও পুরুষের উপর রমজান মাসের একমাস সাওম পালন করা ফরজ।
যাকাত বলতে কি বুঝায়?
যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিশুদ্ধতা, ও বৃদ্ধি পাওয়া। আর ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছরান্তে তার সম্পদের শতকরা ২.৫০ হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করাতে যাকাত বলে।
“শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড “বুঝিয়ে লেখ।
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষাহীন জাতি মেরুদণ্ডহীন প্রাণীর মতো। সঞ্চিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা কে নিজের জীবনের সফলভাবে প্রয়োগ করাকেই শিক্ষা বলে। এ শিক্ষা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হতে সাহায্য করে এবং মানব হৃদয়কে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে মুক্ত করে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে।
‘সাওম ঢালস্বরূপ ‘ ব্যাখ্যা কর।
রাসুল (স.)এর মুখ নিঃসৃত বানী সাওম ঢালস্বরূপ। কেননা সাওম মানুষের লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ- ক্ষোভ ও কামভাবের বিরুদ্ধে ঢালের মত কাজ করে এসব থেকে দূরে রাখে। সাওম তার আত্মা ও দেহকে এতটাই পরিশুদ্ধ করে যে, এসব নিন্দিত কাজ তার পাশে ঘেষতে পারে না।
কিয়াস বলতে কি বুঝ?
শরিয়তের চতুর্থ উৎস হলো কিয়াস।কিয়াস শব্দের অর্থ অনুমান করা, তুলনা করা, পরিমাপ করা ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায় কুরআন ও সুন্নাহর আইন বা নীতির সাদৃশ্যের ভিত্তিতে বিচার বুদ্ধি প্রয়োগ করে পরবর্তীতে উদ্ধৃত সমস্যার সমাধান দেওয়াকে কিয়াস বলে। অন্যকথায় কুরআন, সুন্নাহ, ও ইজমাতে যে সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না ইসলামী মূলনীতি অনুযায়ী বিচার বুদ্ধি প্রয়োগ করে সে সমস্যার সমাধান করাই হলো কিয়াস।
ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য বুঝিয়ে লেখ।
সকল ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য হল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আর এই ইবাদত একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য না হলে আল্লাহ তা কবুল করবেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন,তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্য বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তার ইবাদত করতে। “(সূরা আল -বাইয়্যিনাহ :৫)
সালাতের আহকাম বলতে কি বুঝায়?
সালাত আদায় করার নিয়ম আছে। এ নিয়মের মধ্যে কিছু কাজ আছে ফরজ, যা অবশ্যই পালন করতে হবে। এর যে কোন একটি ছুটে গেলে সালাত আদায় হয় না। এরকম কাজগুলো দু ভাগে বিভক্ত। যা সালাতের আহকাম ও আরকান নামে পরিচিত। এর কতগুলো করতে হয় সালাতের মধ্যে এবং কতগুলো করতে হয় সালাত শুরুর আগে। যে ফরজ কাজগুলো সালাত শুরু করার আগে করতে হয় সেগুলোকে সালাতের আহকাম বলে। একে সালাতের শর্ত ও বলা হয়। এরকম আহকাম সাতটি।
সাওমের কাফফারা বলতে কি বুঝায়?
কাফফারা অর্থ প্রতিকার, বদলা। ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের সাওম পালন না করলে বা ভঙ্গ করলে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়। প্রতিটি সাওমের কাফফারা হলো -১.একাধারে বিরতিহীনভাবে দুই মাস সাওম রাখা। ২. এতে অক্ষম হলে ৬০ জন মিসকিনকে দুবেলা পেট ভরে আহার করানো। ৩. ৬০ জন মিসকিনকে দুবেলা পেট ভরে আহার করাতে অক্ষম হলে একজন ক্রীতদাস আযাদ বা মুক্ত করতে হবে।
যাকাতের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।
যাকাতদানের মুখ্য বা মূল উদ্দেশ্য হলো গরিবদের অবস্থার পরিবর্তন করা। যাতে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছলতা লাভ করতে পারে, অভাব থেকে মুক্তি পায়। আল্লাহ তা’আলা আমাদের জীবন যাপনের জন্য সম্পদ দান করেছেন। সকল মানুষ সমান সম্পদের অধিকারী নয়। কারো কম আবার কারো বেশি। ধনীর সম্পদে আল্লাহ তায়ালা গরিবের অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। গরিবদের সাহায্যের জন্য যাকাতের ব্যবস্থা করেছেন।
যাকাতের মাসারিফ বলতে কি বুঝায়?
যাকাত সকলকে দেওয়া যায় না। কেবল আট শ্রেণীর লোককে যাকাত দেওয়া যায়। যাদেরকে যাকাত দেয়া যায় তাদেরকে বলা হয় যাকাতের মাসারিফ। মাসারিফ অর্থ ব্যয় করার খাত। কোন কোন খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করতে হবে আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
“হাজীদের সম্মান ও মর্যাদা অনেক বেশি “-বিষয়টি বুঝিয়ে লেখ।
হজ পালনকারী ব্যক্তি আল্লাহর খুবই প্রিয় বান্দা। আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন। মহানবী (স.) বলেছেন পানি যেমন ময়লা আবর্জনা ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয় হজ ও মানুষের মনের ময়লা ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়। সুতরাং হাজীদের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূলের বিভিন্ন বর্ণনা হতে বুঝা যায় তাদের সম্মান ও মর্যাদা অনেক বেশি।
হাক্কুল ইবাদ বলতে কি বুঝায়?
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়েই মানুষকে বসবাস করতে হয়। আমরা পিতা-মাতা, ভাই- বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের নিয়ে সামাজিকভাবে একসাথে বসবাস করি। একজনের দুঃখে অন্যজন সাড়া দিই। আপদে -বিপদে একে অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করি। পরস্পরের এই সহানুভূতি ও দায়িত্বই হাক্কুল ইবাদ, বান্দার হক বা অধিকার।
জিহাদে আকবর বলতে কি বুঝায়?
ইবলিশ ও কুপ্রবৃত্তি মানুষের চরম শত্রু। শয়তানের ফাদে পড়ে কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়। এ চরম শত্রু ইবলিশ ও কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে বাতিনী বা অপ্রকাশ্য জিহাদ বলা হয়। বাতিনী জিহাদকে জিহাদে আকবর বা বড় জিহাদ বলা হয়। নবী করিম (স.) বলেছেন “নফস বা কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ হল বৃহত্তম জিহাদ।”