১।আঁশ জাতীয় খাদ্য দেহের জন্য প্রয়োজন কেন?
উত্তর: শস্য দানার বহিরাবরণ, সবজি, ফলের খোসা, শাঁসবীজ এবং উদ্ভিদের ডাঁটা, ফলমূল, পাতায় খাদ্য আঁশ বা রাফেজ থাকে। এগুলো মূলত রেষ প্রাচীরের সেলুলোজ এবং লিগনিন। এগুলো জটিল শর্করা। রাফেজ পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিহাশনে সাহায্য করে। রাফেজযুক্ত খাবার বিষাক্ত বর্জনীয় বস্তুকে খাদ্যনালি থেকে পরিশোষণ করে। ধারণা করা হয়, এরূপ খাবার খাদ্যনালির ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস করে। আশযুক্ত খাবার স্হুলতা হ্রাস, ক্ষুধাপ্রবণতা এবং চর্বি জমার প্রবণত হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
২।। মানবদেহের অন্তঃঅঙ্গসমূহের ক্রিয়াকলাপ সম্পাদনে পানির ভূমিকা কী? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানবদেহের অন্তঃঅঙ্গসমূহের ক্রিয়াকলাপ সম্পাদনে পানির ভূমিকা নিম্নরূপ-
দেহের অভ্যন্তরীণ কার্য নিয়ন্ত্রণ: পানি ব্যতীত দেহের অভ্যন্তরের কোনো রাসায়নিক ক্রিয়া চলতে পারে না। দেহে পানি দ্রাবকরূপে কাজ করে। পানির জন্যই দেহে রক্তসঞ্চালন সম্ভব। রক্তে পরিবাহিত খাদ্য উপাদান এবং অক্সিজেন পানির মাধ্যমে দেহকোষে পৌঁছাতে পারে। দেহের সকল ধরনের রসে খনিজ লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। পরিপাককৃত খাদ্য উপাদান পানিতে দ্রবীভূত্ব অবস্থায় ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্য দিয়ে রক্তে বিশোষিত হয়।
দুষিত পদার্থ নির্গমন: পানি দেহের দূষিত পদার্থ অপসারণে সাহায্য করে। মলমূত্র, ঘাম ইত্যাদি দূষিত পদার্থের সাথে দেহ থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়।
৩।মানবদেহে রক্তশূন্যতা কেন হয়?
উত্তর: লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে। হিমোগ্লোবিন এক ধরনের বস্তুক পদার্থ। লোহিত রক্তকণিকায় এর উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা দেখ দেয়। এছাড়াও লৌহ, ফলিক এসিড, ভিটামিন বি, ইত্যাদির অভাবে রক্তশূনহ দেখা যায়। রক্তশূন্যতা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন, অত্যাধিক রক্তপাত ঘটলে, কৃমির আক্রমণে, লৌহগঠিত খাদ্য উপাদান শরীরে যথাযথভাবে শোষিত না হলে, বাড়ন্ত শিশু বা গর্ভবর্তী নারীদের খাদ্যে লৌহের পরিমাণ কম থাকলে, অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটলে ইত্যাদি।
৪।পায়েস কোন ধরনের আমিষ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: পায়েস এক ধরনের মিশ্র আমিষ। দুই বা ততোধিক আমিষ একত্রে রান্না করে মিশ্র আমিষ তৈরি করা হয়। মিশ্র আমিষকে সম্পূরক আমিষও বলা হয়। এক্ষেত্রে পায়েস মিশ্র আমিষ। কারণ চালের সাথে দুধের সংমিশ্রণে পায়েস তৈরি করা হয়।
৫।যকৃতকে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয় কেন?
উত্তর: মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হল যকৃত। যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। গ্লাইকোজেন সঞ্চয় করে। অ্যামাইনো এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। পিওরস চর্বিজাতীয় খাদ্য কণা ভাঙ্গতে সহায়তা করে, খাদ্যের অম্লভাব দূর করে এবং ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। যকৃতে এইরূপ বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলে।
৬।প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় লৌহ সমৃদ্ধ খাদ্য রাখার প্রয়োজন কেন
উত্তর: খাদ্যের মুখ্য উপাদান লৌহ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-১২ ইত্যাদির অভাব ঘটলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব কমে যায়। ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। রক্তশূন্যতা হলে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দেয়।দুর্বলতা অনুভব করা, মাথাব্যাথা, মনমরা ভাব, অনিদ্রা, চোখে অন্ধকার দেখা, খাওয়ার অরুচি, বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদি। তবে বাংলাদেশে সাধারণত লৌহের ঘাটতি জনিত রক্তস্বল্পতা বেশি হয়। তাই এ রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় লৌহ সমৃদ্ধ খাবার (যকৃৎ, মাংস, চিনাবাদাম, শাকসবজি, বরবটি, মসুর ডাল, খেজুরের গুড় ইত্যাদি) রাখা প্রয়োজন।
৭।খাদ্য দ্রব্যে ফরমালিন ব্যবহার কিরূপ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর। ফরমালিন হলো অ্যালডিহাইড (H-CHO) এর 6-10% জলীয় দ্রবণ। ফরমালিনে ডুবানো মাছ, ফল ও অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যে পচন সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিতে পারে না বলে কয়েক দিন বেশ টাটকা দেখা যায়। ফরমালিন মাছের কোষের সাথে যৌগ তৈরি করে ফেলে। মাছ ধোয়া হলেও ঐ যৌগটি মাছের দেহে থেকে যায়। যা পরে রান্না করা মাছের সাথে মানবদেহে প্রবেশ করে। এই বিষাক্ত যৌগ নানা রকম জটিল রোগের উপসর্গের কারণসহ অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সারজাতীয় রোগের সৃষ্টি করে।
৮।আদর্শ খাদ্য পিরামিড কী? ব্যাখ্যা কর।৮।
উত্তর: যেকোনো একটি সুষম খাদ্যতালিকায় শর্করা, শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ ও স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। একজন কিশোর বা কিশোরী ও প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ বা মহিলার সুষম খাদ্যতালিকা লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। শর্করাকে নিচু স্তরে রেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে।
৯।খাদ্যপ্রাণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: খাদ্যপ্রাণ বলতে ভিটামিনকে বোঝায়। দেহের বৃদ্ধি ও সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন অত্যাবশ্যক। ভিটামিনের অভাবজনিত সমস্যা মারাত্মক আকারে স্থায়ীভাবে দেহের ক্ষতিসাধন করে। এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। এজন্যই ভিটামিনকে খাদ্যপ্রাণ বলে।
১০।লাইপেজ কীভাবে চর্বিকে ভাঙতে সাহায্যে করে?
উত্তর:যকৃতের তৈরি পিত্তরস স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে। স্নেহ বিশ্লেষক লাইপেজ এই দানাগুলোকে ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল পরিণত করে।
স্নেহ পদার্থ——লাইপেজ——>ফ্যাটি এসিড গ্লিসারল
১১।পরিশ্রমের পাশাপাশি বিশ্রামও প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:সুস্থ জীবনের জন্য প্রতিদিন সকলেরই পরিমিত পরিশ্রম করা উচিত। পরিমিত শরীরচর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের, শরীরের কার্যক্ষমতা অটুট রেখে টা থাকতে পারি। একইভাবে পরিশ্রমের পাশাপাশি আমাদের শরীরের জন্য নিতাম অতান্ত প্রয়োজন। শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমের পরই বিশ্রামের প্রয়োজন। শুয়ে থাকা, ঘুমানো ইত্যানি বিশ্রামের অংশ। বিশ্রামের ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশ পুনঃশক্তি সঞ্চয় করে। তাই পরিশ্রমের পাশাপাশি বিশ্রাম প্রয়োজন হয়।
১২।বোরন উদ্ভিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তর : উদ্ভিদের সক্রিয়ভাবে বর্ধনশীল অঞ্চলের জন্য বোরন প্রয়োজন। চিনি পরিবহনে বোরন পরোক্ষ প্রভাব বিস্তর করে। এছাড়া বোরনের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়, কান্ড খসখসে হয়ে, ফেটে যায়। ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। তাই বোরন উদ্ভিদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
১৩।মিশ্রগ্রন্থি বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানবদেহের বিভিন্ন তন্ত্র থেকে যে রস নিঃসৃত হয়, তাদেরকে মিশ্রগ্রন্থি বলে।যেসব
গ্রন্থি থেকে একাধিক রস নিংসৃত হয়, তাঁদেরকে মিশ্রগ্রন্থি বলে। যেমন- অগ্ন্যাশয়। অগ্ন্যাশয় একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। অর্থাৎ অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও আঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। এই জন্য অগ্ন্যাশয়কে মিশ্রগ্রন্থি বলা হয়।
১৪।BMI ও BMR এর মধ্যে পার্থক্য কী? ব্যাখ্যা কর
উত্তর: BMI BMR এর পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
১. BMI এর পূর্ণরূপ হলো Body mass index
১. BMR এর পূর্ণরূপ হলো Basal metabolic Rate
২. BMI মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে।
২. BMR পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায় মানবশরীরে ব্যবহৃত শক্তির পরিমাণ নির্দেশ করে।
৩. BMI স্কুলতার মান নির্ণয়ের ৩ জন্য উপযোগী।
৩. BMR ক্যালরি চাহিদা বের করার জন্য উপযোগী
১৫।বাস্তবমুখী মেনু পরিকল্পনার প্রয়োজন কেন?
উত্তর : সুস্থ, সবল ও উন্নত জীবনযাপনের জন্য সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। দেহের পরিপুষ্টির জন্য ছয়টি উপাদানবিশিষ্ট খাদ্য অন্তর্ভূক্ত করে সুষম তালিকা বা মেনু পরিকল্পনা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেহের চাহিদা, এদের সহজলভ্যতা এবং পারিবারিক আয়, এ তিনটি বিষয় বিবেচনা করে ধষ্য উপাদান বাছাই বা মেনু পরিকল্পনা করলে তা বাস্তবমুখী হয়।
১৬।রাফেজ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:শস্য দানার বহিরাবরণ, সবজি, ফলের খোসা, শাঁসবীজ এবং উদ্ভিদের মগ্রী, ফলমূল, পাতায় খাদ্য আঁশ বা রাফেজ থাকে। এগুলো মূলত কোষ প্রাচীরের সেলুলোজ এবং লিগনিন। এগুলো জটিল শর্করা। রাফেজ পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। রাফেজযুক্ত খাবার বিষাক্ত বর্জনীয় বস্তুকে খাদ্যনালি থেকে পরিশোষণ করে। ধারণা করা হয়, এরূপ খাবার খাদ্যনালির ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস করে। আঁশযুক্ত খাবার স্থূলতা হ্রাস, ক্ষুধাপ্রবণতা এবং চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১৭।বিশুদ্ধ খাদ্য বলতে কী বুঝ?
উত্তর: বিশুদ্ধ খাদ্য হচ্ছে সে সকল খাদ্য, যে খাদ্যে শুধুমাত্র একটি উপাদান বিদ্যমান। যেমন- চিনি, গ্লকোজ প্রভৃতি খাদ্য যাতে শুধুমাত্র শর্করা জাতীয় খাদ্য বিদ্যমান।
১৮।ভিটামিন কাকে বলে?
উত্তর: যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ খাদ্যে অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে উপস্থিত থেকে পরোক্ষভাবে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন বা তাপ শক্তি উৎপাদন করে তাকে ভিটামিন বলে।
১৯।টক্সিক গলগণ্ড বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অতিমাত্রায় থাইরক্সিন নামক হরমোন নিঃসরণের ফলে যে গলগণ্ড রোগা হয় তাই টক্সিক গলগণ্ড। এ রোগের লক্ষনগুলো হলো- হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, বুক ধড়ফড় করা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া ও অধিক ঘাম হওয়া। রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন দ্বারা এ রোগ রোধ করা যায়।
২০।অজীর্ণতার লক্ষণসমূহ লিখ।
উত্তর:জীর্ণতার লক্ষণ:
i. পেটের উপরের দিকে ব্যথা করা।
ii. পেট ফাঁপা থাকা।
iii. পেট ভরা মনে হওয়া।
iv. বুক জ্বালা করা।
৮. বমি বমি ভাব বা বমি করা।
Vi. বুক ব্যথা করা।
vii. টক ঢেঁকুর উঠা।
২১।ডায়রিয়া রোগটি কেন বিপদজনক?
উত্তর: ডায়রিয়া একটি বিপদজনক রোগ। কেননা ডায়রিয়া হলে রোগীর দেহ থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়, দেহের পানি কমে যায়, রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে দেহে পানি ও লবণের স্বল্পতা দেখা দেয়। এসময় যথাযথ চিকিৎসা করা না হলে রোগী মারাও যেতে পারে।
২২।ফরমালিনের সম্ভাব্য উৎস কি কি হতে পারে?
উত্তর: রঙিন, ছবি ডেভেলপের স্টুডিও, লাশ সংরক্ষণের মর্গ ইত্যাদি প্রধান ব্যবহারকারী। মাছ, দুধ, ফল ইত্যাদি সংরক্ষণে অননুমোদিত ব্যবহার।
২৩।ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ কয়েকটি খাবারের নাম লিখ।
উত্তর: ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার:
i. মাছের যকৃতের তেল
ii. কলিজা
iii. সবুজ শাকসবজি
IV. রঙিন ফল যেমন: পাকা আম, কলা, মিষ্টি কুমড়া, গাজর ইত্যাদি
V. মলা-ঢেলা মাছ।
২৪।বোরনের অভাবজনিত লক্ষণ কি
উত্তর :বোরনের অভাবজনিত লক্ষণগুলো হলো:
১. বোরনের অভাবে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়।
২. কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায়।
৩. পাতা বিকৃত হয়।
৪. কান্ড খসখসে হয়ে কেটে যায়।
৫. ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়।
২৫।রিকেটস রোগের লক্ষণ কি কি?
উত্তর: রিকেটস রোগের লক্ষণ: রিকেটস রোগের ফলে-
i.দেহের হাড়গুলো দুর্বল হয়ে যায়।
ii. গাঁট ফুলে যায়।
iii.হাড়গুলো, বিশেষ করে পায়ের হাড়গুলো বেকে যায়।
iv. অনেক সময় সরু হাড়গুল্যে ভাঁয় খেয়ে যায়।
v.বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়।
vi.হাড় গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায়।
বাংলাদেশে কোন ধরনের মানুষের Anemia রোগ বেশি হয়?
উত্তর: বাংলাদেশে সাধারণত হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত আমিষের অভাব Anemia (রক্তস্বল্পতা) রোগ হয়। শিশুদের ও গর্ভধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মহিলাদের এই রোগ বেশি হয়।
২৭।বিশুদ্ধ খাদ্য বলতে কি বুঝ?
উত্তর:বিশুদ্ধ খাদ্য হচ্ছে সে সকল খাদ্য, যে খাদ্যে শুধুমাত্র একটি উপ্যমান বিদ্যমান। যেমন- চিনি, গ্লকোজ প্রভৃতি খাদ্য যাতে শুধুমাত্র শর্করা জাতীয় খাদ্য বিদ্যমান।
২৮।পোর্টাল শিরা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: যে শিরা যকৃতে রক্ত পরিবহন করে তাকে পোর্টাল শিরা বলে। এটি ক্ষুদ্র আকৃতির। পোর্টাল শিরা যকৃতে রক্তের সাথে পুষ্টিদ্রব বহন করে। ফলে যকৃতের পুষ্টির চাহিদা পূরন করে।
২৯।কিভাবে গলগণ্ড রোগের সৃষ্টি হয়?
উত্তর: গলগণ্ড থাইরয়েড গ্রন্থির একটি রোগ। খাবারে আয়োডিনের অভাব থাকলে থাইরয়েড গ্রন্থিটির আয়তন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে গলগণ্ড রোগ সৃষ্টি করে। সমুদ্র থেকে দূরে পার্বত্য এলাকার মাটিতে আয়াডিন কম থাকা ঐ সব অঞ্চলের শিশুদের এই রোগ বেশি দেখা যায়।
৩০।মানবদেহে কয়টি লালাগ্রন্থি আছে নামসহ লিখ।
উত্তর: মানবদেহে তিনজোড়া লালাগ্রন্থি আছে। এগুলো হলো-
(ক) একজোড়া প্যারোটিড গ্রন্থি
(খ) একজোড়া সাব-ম্যাক্সিলারি গ্রন্থি
(গ) একজোড়া সাব- লিঙ্গুয়াল গ্রন্থি।