তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (Information and Communication Technology) কে সংক্ষেপে ICT বলে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সাধারণভাবে তথ্য প্রযুক্তি শব্দটির সমর্থক হিসেবে ধরা হয়। প্রযুক্তিতে ICT শব্দের ব্যবহার শুরু করেন একাডেমিক গবেষকরা (১৯৮০-২০০০খ্রিঃ)। স্টিভেনসন ১৯৯৭ সালে প্রথম তার এক প্রতিবেদনে এই শব্দটি উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে ২০০০ সালে আমেরিকার জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ধীরে ধীরে এটি সকলের কাছে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠে। বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা ICT নিজেই একটি স্বতন্ত্র বিভাগে পরিণত হয়েছে।

তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি বলতে, যে কোন প্রকারের তথ্যের উৎপত্তি, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, সঞ্চালন, বিচ্ছুরণ ও বিশ্লেষণে ব্যবহৃত সকল ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তিকে বুঝায়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রধান কাচামাল হচ্ছে তথ্য। তথ্যকে প্রক্রিয়া করণে আধুনিক কালে যে যন্ত্রটি ব্যবহৃত হয় তা হলো কম্পিউটার। এই কম্পিউটারের ক্রমবর্ধমান উন্নতির কারণে, মানব সমাজে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বেড়ে চলছে। বর্তমানে কম্পিউটারগুলো শুধু ডেটা প্রক্রিয়া করেই ক্ষান্ত নয় এরা পরস্পরের সাথে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত। ফলে এগুলো পরস্পরের সাথে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ডাটা আদানপ্রদান করতে সক্ষম। বিশ্বব্যাপী এই কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক বা জালকে ইন্টারনেট বলে।

এই বিদ্যাবিন্দু থেকে পর্যায়ক্রমে ICT বিষয়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ –

  • তথ্যপ্রযুক্তির প্রাথমিক ধারণা
  • কম্পিউটার
  • অপারেটিং সিস্টেম
  • সফটওয়ার
  • ডেটাবেস
  • প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ
  • নেটওয়ার্ক
  • নিরাপত্তা ব্যবস্থা
  • তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা

বর্তমান সময়ে সারা দুনিয়া তথ্য প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল এবং আগামী বিশ্ব আরও বেশি নির্ভরশীল হতে চলেছ। তাই তথ্য প্রযুক্তিকে ভালভাবে জানা সকলের জন্যই জরুরী। তাহলে তথ্য প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে একে মানব জাতির উপকারে কাজে লাগাতে পারবো। তাছাড়া তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে বর্তমানে ঘরে বসে বিশ্বের যে কোন প্রান্তের অফিস বা ব্যাক্তির কোন কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে যাকে আউটসোর্সিং বলে। আউটসোর্সিং শিখতে হলেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ভালভাবে বুঝতে হবে। তাই তথ্যপ্রযুক্তির মৌলিক বিষয় সমূহকে প্রাধান্য দিয়ে এই ধারাবাহিক আলোচনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সার্বিক বিষয়কে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিদ্যাবিন্দুর মাধ্যমে আউটসোর্সিং সহ আরও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংযুক্ত করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই যে বিষয়টি বুঝতে হবে তা হলো তথ্য ও উপাত্ত। পরবর্তী বিদ্যাপাতায় তথ্য ও উপাত্ত সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।